চার কোটি মানুষ ‘আধুনিক দাস’

0
16

আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে কালো মানুষকে তুলে এনে বিক্রি করা এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে তাদের দিয়ে জোর করে কাজ করানো—দাসপ্রথার এ রূপটি এখন আর নেই। কিন্তু পৃথিবী থেকে কি দাসপ্রথার অবসান হয়েছে? আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) একটি প্রতিবেদন বলছে, ২০১৬ সালেও বিশ্বে চার কোটি মানুষ দাসত্বের শিকার হয়েছে। একে বলা হচ্ছে আধুনিক দাসত্ব।
এই চার কোটির মধ্যে আড়াই কোটি মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে শ্রম দিতে হয়েছে। দেড় কোটিকে শিকার হতে হয়েছে জোরপূর্বক বিয়ের। আইএলওর চোখে এ দুটি দাসত্বের আধুনিক রূপ। বাধ্যতামূলক শ্রম বিক্রি করে কারা? আইএলও বলছে, হুমকির মুখে কৃষিশ্রম, মাছ ধরা, কর্মপরিবেশের বালাই না থাকা কারখানায় শ্রম বিক্রি করা, যৌন পেশায় নিয়োজিত থাকা ইত্যাদি আধুনিক দাসত্বের রূপ। জোরপূর্বক বিয়েকে আইএলও তুলনা করেছে যৌন স্বাধীনতা হারানো ও বিয়ের আড়ালে শ্রম বিক্রির সঙ্গে।
আইএলও আরও বলেছে, বাধ্যতামূলক শ্রমকে বিদায় দেওয়া, আধুনিক দাসত্বের অবসান ঘটানো ও মানব পাচার রোধ জাতিসংঘ গৃহীত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) অধীনে একটি অন্যতম লক্ষ্য। সদস্যরাষ্ট্রগুলো এ লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের কথা বলেছে।
আইএলওর মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেন, প্রতিবেদনে যে সমস্যাগুলো উঠে এসেছে, তা সমাধান না হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এসডিজি অর্জন করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে নতুন বৈশ্বিক হিসাব তাঁদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে সহায়তা করবে।
আইএলওর প্রতিবেদনটি গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়। ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশন ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে যৌথভাবে আইএলও এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এতে দেশভিত্তিক আধুনিক দাসত্বের চিত্র তুলে ধরা হয়নি। তবে কোন অঞ্চলে এর প্রবণতা বেশি, তা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আইএলওর তথ্য অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক শ্রম ও জোরপূর্বক বিয়ে বেশি হয় আফ্রিকায়। এর পরের অবস্থানে আছে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। তবে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের একটি মন্তব্য উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশি ওই শ্রমিক ঋণ নিয়ে সুদের চক্রে আটকে যান। ঋণ শোধ করতে তাঁকে ঋণদাতার অধীনে বাধ্যতামূলকভাবে কাজ করতে হয়।
আইএলওর প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বাধ্যতামূলক শ্রমের শিকার হয়েছে ২ কোটি ৪৯ লাখ মানুষ। এর মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ বাধ্যতামূলক শ্রম দিয়েছে বেসরকারি খাতে। ৪৮ লাখ ছিল জোরপূর্বক যৌন পেশায়। আর বাকি ৪১ লাখ মানুষকে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োজিত থাকতে বাধ্য করেছে। বেসরকারি খাতে বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োজিত ব্যক্তিদের মধ্যে অর্ধেক ছিল ঋণবন্দী। এর মানে হলো, ঋণ নেওয়ার কারণে মালিকের কাজ করতে বাধ্য।
আইএলওর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অনেক ক্ষেত্রেই জোর করে কাজ করিয়ে উৎপন্ন পণ্য ও সেবা আনুষ্ঠানিক পথে বাজারে আসে। আমরা যে খাবার খাই, যে পোশাক পরিধান করি অথবা যে ভবনে থাকি, তা হয়তো বাধ্যতামূলক শ্রমে তৈরি।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, জোরপূর্বক বিয়ের শিকার শুধু মেয়েরাই নয়, ছেলেরাও হয়। তবে ৮৮ শতাংশ ক্ষেত্রে মেয়েরাই এর শিকার। এর মধ্যে প্রতি তিনজনের একজন মেয়ের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর বয়সের আগে।